স্বামীকে দাফনের এক ঘণ্টা পরই স্ত্রীর মৃত্যু, একই কবরস্থানে পাশাপাশি চিরনিদ্রায়

Cumilla24

১০ ঘন্টা আগে বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬


#

স্বামী-স্ত্রীর জীবনের বন্ধন যেন মৃত্যুতেও ছিন্ন হলো না। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্বামী আব্দুল জলিলের (৭০) দাফন শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা পর মারা গেলেন স্ত্রী আমিনা বেগম (৬০)। এর আগে মাত্র আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ (মতিনবাজার) গ্রামে ঘটে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা। একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার। ঘটনাটি নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যেও।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর হঠাৎ স্ট্রোক হয় আমিনার। স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টা পরই স্ট্রোক হয় আব্দুল জলিলেরও। আব্দুল জলিলকে রংপুরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।

এরপর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান আব্দুল জলিল। পরদিন মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্বামীর দাফন শেষ করে স্বজনরা যখন বাড়িতে ফিরেছেন, ঠিক তখনই ঘটে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনা। বিকেল ৫টার দিকে মারা যান আমিনা বেগম। বাদ মাগরিব তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বামীর পাশেই তাকে দাফন করা হয়।

সাহাবাজ (মতিনবাজার) গ্রামের আব্দুল জলিল একজন কৃষক। তার স্ত্রী আমিনা বেগমের বাবার বাড়ি একই উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামের হলদিয়া এলাকায়। তিনি গৃহিণী ছিলেন।

আমিনা বেগমের ভাতিজা ও সুন্দরগঞ্জের শোভাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ফুপুর প্রথমে স্ট্রোক হয়। এর আড়াই ঘণ্টা পর ফুপারও স্ট্রোক হয়। তবে পরে স্ট্রোক হলেও ফুপাই আগে মারা যান।

তিনি বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ফুপার দাফন শেষ হয়। এর এক ঘণ্টা পরই ফুপুর মৃত্যু হয়। ফুপুর অসুস্থতা নিয়ে ফুপা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

এ দম্পতির ছেলে আলম মিয়া বলেন, আমার বাবা-মায়ের মধ্যে অনেক মিল-মহব্বত ছিল। হয়তো সে কারণেই তারা একই সময়ে অসুস্থ হয়ে একই দিন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। বিকেল ৪টার দিকে বাবার দাফন শেষ করে বাড়িতে আসার কিছুক্ষণ পরই, পাঁচটার দিকে মায়ের মৃত্যু হয়। একদিনেই আমরা বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে এতিম হয়ে গেলাম।

সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা খুবই বিরল। পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তারা আমার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আমি তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতবাসী করেন।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied