পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুকে ডেকে স্বামীকে হত্যা, পরিবার জানতো হৃদরোগে মৃত্যু

Cumilla24

১১ ঘন্টা আগে বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬


#

স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যুকে ‘হৃদরোগ’ বলে চালিয়ে দিয়েছিলেন স্ত্রী। স্বজনরাও কান্নাকাটি করে নিথর দেহটি সমাহিত করেছিলেন কবরস্থানে। কিন্তু অপরাধের চিহ্ন যে চিরকাল চাপা থাকে না, তারই প্রমাণ মিলল মৃতের নিজের মুঠোফোনে লুকিয়ে থাকা একটি চ্যাটের মাধ্যমে। ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিককে ডেকে এনে স্বামীকে পিটিয়ে ও ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার রোমহর্ষক এ ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকায়। নিহত যুবকের নাম তালিব (৩০)। চার বছর আগে পেশায় বিউটিশিয়ান ইলমার (২৭) সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

ঘটনার দিন ইলমা তার বড় ভাই আকরামকে জানান, কাজ থেকে ঘরে ফিরে তালিব হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিছানায় ঢলে পড়েন তিনি এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে ভেবে কোনো ধরনের সন্দেহ ছাড়াই শোকাহত পরিবার ধর্মীয় রীতি মেনে তালিবের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে।

তবে দাফনের কিছুদিন পর থেকেই পরিবারের লোকজনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। গত ১ অক্টোবর তালিবের চাচাতো ভাই রইস তথ্য খোঁজার উদ্দেশ্যে ইলমার বাড়িতে যান। তালিবের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি অনেক খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছিল না; ইলমা কৌশলে সেটি কাপড়ের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে তল্লাশি চালিয়ে রইস ফোনটি উদ্ধার করেন।

ফোনটির মেসেজ ঘাঁটতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। সেখানে আমান নামের এক যুবকের সঙ্গে তালিবের তীব্র বাদানুবাদের চ্যাট দেখতে পান রইস, যেখানে তালিব স্পষ্টভাবে আমানকে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা বলতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন। এই প্রমাণের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা ইলমাকে চাপ দিয়ে জেরা শুরু করতেই ভেঙে পড়েন তিনি এবং স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

স্বীকারোক্তিতে ইলমা দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তালিব প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এমনই এক বিবাদের পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পরকীয়া প্রেমিক আমানকে ডেকে পাঠান। আমান তার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছান। এরপর তিনজন মিলে তালিবকে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে আমান গলার ওড়না (চুন্নি) পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তালিবের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিলে তালিবের মৃত্যুর পর তাকে বিয়ে করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমান।

কোতোয়ালি অঞ্চলের সার্কেল অফিসার (সিও) সংগ্রাম সিং জানান, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার কবর থেকে তালিবের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে বর্তমানে পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ফরেনসিক ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত প্রেমিক আমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied