টাকা না দেওয়ায় মেলেনি ট্রলি, অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটির পর শিশুর মৃত্যু
১০ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
ফরিদপুর
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার বছরের অসুস্থ শিশুকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পর ট্রলির
জন্য টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই টাকা দিতে না পারায় সময়মতো ট্রলি না পাওয়ার অভিযোগ
করেছেন শিশুটির স্বজনেরা। এ ঘটনার একটি ৩২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার
(৫ অক্টোবর) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটির নাম রুহুল আমিন
(৪)। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে।
স্বজনদের
অভিযোগ, শিশুটিকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার জন্য স্ট্রেচার বা ট্রলি চাওয়া হলে কর্মচারীরা
টাকার দাবি জানান। সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি মেলেনি। বাধ্য হয়ে শিশুটিকে কোলে
নিয়েই স্বজনদের ওয়ার্ডের দিকে ছুটতে হয়েছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু
হয়।
এ
সময় শিশুটির মুখে অক্সিজেনের মাস্ক লাগানো ছিল। একজন স্বজন কোলে শিশুটিকে নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন,
আর অন্যরা অক্সিজেন সিলিন্ডার ও স্যালাইনের বোতল বহন করছিলেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
তবে
ট্রলি না পাওয়ার কারণে শিশুটির অবস্থার অবনতি বা মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত
নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহলের অনেকে।
তবে
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ
পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রোগীর স্বজনদের অভিযোগ সঠিক নয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত
ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ অবস্থায় ট্রলিতে করে তাকে নেওয়া হলে আরও বেশি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন
আশঙ্কায় নার্সরা শিশুটিকে ট্রলিতে নিতে নিষেধ করেছিলেন।
এ
বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরো
বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।