অডিট চলাকালে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার বিষপানে মৃত্যু

Cumilla24

৯ ঘন্টা আগে বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬


#

কয়েকদিন ধরে গ্রামীণ ব্যাংক সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী শাখায় অডিট চলছিল। অডিটের চাপে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন শাখা ম্যানেজার মো. আব্দুস সালাম (৫০)। তিনি সহকর্মীদের বলেন, ‘আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব’।অবশেষে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে নিজের প্রাণ দিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এদিকে এ ঘটনায় তিন অডিট অফিসারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন গ্রামীণ ব্যাংক কর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। নিহত আব্দুস সালাম পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

গ্রামীণ ব্যাংক নিমগাছী শাখার কর্মীরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরেই ব্যাংকে অডিট কার্যক্রম চলছিল। এ সময় ম্যানেজার আব্দুস সালামকে উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি দুটি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। পরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর অডিট কমিটির তিন সদস্যকে আটক করে ব্যাংকের কর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনগণ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তিন অডিট অফিসারকে আটক করে। তবে অডিটের চাপের কারণে আব্দুস সালাম আত্মহত্যা করেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের সদস্য ও গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শফিকুল ইসলাম নামে এক কর্মী বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালাম বলেছিলেন ‘আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব’-তখন গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। তাৎক্ষণিক তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামীণ ব্যাংকের একাধিক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যাংকের টার্গেট পূর্ণ করা ও পকেট কিস্তির কারণে প্রতিটি কর্মী থেকে শুরু করে কর্মকর্তা পর্যন্ত সবাই চাপে থাকেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা-১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয় তাদের। শুক্র-শনিবার সরকারি ছুটি থাকলেও প্রতি শনিবারই বকেয়া আদায়ের জন্য মাঠে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর বছরে বছরে রয়েছে অডিটের চাপ। এসব কারণে চরম নির্যাতিত হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মীরা। তারা বলেন, অডিট অফিসারদের অতিরিক্ত চাপের কারণেই আব্দুস সালামের মতো শাখা ব্যবস্থাপককে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের রায়গঞ্জ এরিয়া ম্যানেজার মো. মহিউদ্দিন বলেন, অডিট অফিসার ঢুকলে চাপ তো কিছু থাকবেই। কিছু যদি অনিয়ম হয়, তাহলে তো কিছু কথা অডিট অফিসাররা বলবেই। সদস্যদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে-সেগুলো আবার ম্যানেজারকে বলবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক মাসে আমাদের টার্গেট থাকে। সেটাকেই যদি চাপ মনে করে, সেটা থাকবেই। প্রতি প্রতিষ্ঠানেরই পরিকল্পনা থাকে। তেমনি আমাদেরও আছে।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যার ঘটনায় তিন অডিট অফিসারকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অডিট কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। নিহত আব্দুস সালামের মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied