ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের ছবি প্রকাশ
১৬ ঘন্টা আগে রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী
ডা. জুবাইদা রহমান। গত ২২ সেপ্টেম্বর
রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এ নৈশভোজের আয়োজন
করা হয়।
শনিবার
(৩ অক্টোবর) মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং প্রধান দাপ্তরিক কার্যালয় হোয়াইট হাউস ওই নৈশভোজের ছবিটি
প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত
করা হয়েছে।
জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের ৮১ তম অধিবেশন
উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে এ নৈশভোজের আয়োজন
করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের
সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং
তাদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন।
এই
নৈশভোজে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনী
ডা. জুবাইদা রহমান। ছবিতে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মাঝে রেখে দুই পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা
রহমান।
সাধারণ
পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের সম্মানে গত ২২ সেপ্টেম্বর
এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি
মেলানিয়া ট্রাম্প এ নৈশভোজের আয়োজন
করেন।
জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর
নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ।
জাতিসংঘে
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণের পাশাপাশি ৬টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও ৩০টি আন্তর্জাতিক
কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সফরকালে
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু
পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে
ধরেন।
ভাষণে
প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায়
জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার
ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ
ছাড়া তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের
ক্ষমতায়ন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্যে সরকারের
‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর
কৌশলের কথাও তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা
সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই
দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের একমাত্র
সমাধান। স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন।
সফরকালে
তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ
এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন
বিষয়ে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভুটানের
প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার
নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংক
গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদার এবং অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
চার
দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক
সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী
প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।