ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম

Cumilla24

৪৯ মিনিট আগে বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬


#

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ কিশোরী মোছা. নিঝুম খাতুনের গলিত লাশের সন্ধান মিলেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমের (২৩) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি শনাক্ত করা হয়।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন জিম।  একইদিন রাত ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এখলাচ হোসেন।

পুলিশ জানায়, ১৩ মার্চ ২০২৫ মোছা. নিঝুম খাতুন (১৭) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. তাসলিমা খাতুন বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মহেশপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে তিনি একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ ১৮ মাস পর নিঝুমের প্রেমিক মাশরিকুল রহমান জিমকে আটক করা হয়। জিম উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে। আটকের পর ২০ সেপ্টেম্বর তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় জিম নিঝুমের লাশের সন্ধান দেন। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনের কাছে নিঝুমকে হত্যা করেছে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হন সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা।

জিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তাকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় যায় এবং ঘটনাস্থল শনাক্ত করে। একপর্যায়ে টিমের সদস্যরা জানতে পারেন, নিঝুমের অর্ধগলিত লাশ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ দুপুরে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

তখন পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে পাবনা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহায়তায় লাশটি কবরস্থ করা হয়। পরে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম সিআইডির ক্রাইম সিন এক্সপার্টদের আর্কাইভে সংরক্ষিত অর্ধগলিত কিশোরীর ছবি সংগ্রহ করে। ছবিতে থাকা পোশাক দেখে জিম নিঝুমের লাশ শনাক্ত করে।

পুলিশ আরও জানায়, জিমের সঙ্গে নিঝুমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৩ মার্চ ২০২৫ বেড়ানোর কথা বলে নিঝুমকে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশনে নিয়ে যান জিম। সেখানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে তারা জনশূন্য পাকশী রেললাইনের ওপর প্ল্যাটফর্মে বসে সময় কাটান।

এ সময় নিঝুম জিমকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিম রাগান্বিত হয়ে নিঝুমকে সজোরে থাপ্পড় মারেন। এতে নিঝুম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে রেললাইনের নিচে নির্জন জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যান জিম। সেখানে নিঝুমের পরিহিত ওড়না দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন জিম।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশ গুম করার উদ্দেশে জঙ্গলের পাশে নির্জন স্থানে রেখে ট্রেনে করে গ্রামে ফিরে যান জিম।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে জিমকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে কিশোরী নিঝুম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। মামলাটি তদন্ত করছেন মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিমানিষ।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied