হাঁস চুরির অপবাদে নাকে খত, অপমানে যুবকের আত্মহত্যা
৬ ঘন্টা আগে সোমবার, মার্চ ৯, ২০২৬
চাঁদপুরের
ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির অভিযোগে গ্রাম্য সালিশে ‘নাকে খত’
দেওয়ানোর অপমান সইতে না পেরে মো. মাসুম (২০) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ
করেছে তার পরিবার।
রবিবার
(৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মো.
মাসুম ওই গ্রামের মিজি বাড়ির আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মো. নয়ন পাটওয়ারীর দুটি চীনা হাঁস ও একটি
দেশি হাঁস গত শুক্রবার রাতে চুরি হয়। পরদিন সকালে হাঁস না পেয়ে পরিবারের লোকজন জানতে
পারেন, একই গ্রামের মাসুম হাঁসগুলো চুরি করে রাবেয়া বেগম নামে এক গৃহবধূর কাছে বিক্রি
করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ
ঘটনার জেরে রবিবার দুপুরে মাসুমের বাড়িতে স্থানীয় ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে গ্রাম্য
সালিশ বসে। সালিশে সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে মাসুমকে অভিযুক্ত
করা হয়। সেখানে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কাজ না
করার শর্তে ‘নাকে খত’ দেওয়ানো হয়।
পরিবারের
দাবি, এ ঘটনায় মাসুম অপমানিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সন্ধ্যায় পরিবারের অগোচরে ঘরের
আঁড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন সে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে
খবর দেন।
স্থানীয়
ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেছেন, মাসুম এর আগেও চুরির ঘটনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবার হাঁস চুরির ঘটনায় সে অপরাধ স্বীকার করায় তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়
এবং নাকে খত দেওয়া হয়। পরে সে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি।
মাসুমের
বাবা আলাউদ্দিন মিয়া অভিযোগ করেন, চুরির অপবাদ দিয়ে নয়ন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন তার ছেলেকে
মারধর করেছেন। ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে একতরফা সালিশ করে তার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও
দাবি করেন তিনি।
তিনি
জানিয়েছেন, অপমান সইতে নানা পেরে তার ছেলে
আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনার জন্য ইউপি সদস্য, সালিশে থাকা ব্যক্তিরা ও নয়ন পাটোয়ারী দায়ী।
তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে
হাঁসের মালিক নয়ন পাটোয়ারী বলেছেন, হাঁস চুরির ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো
হয়েছিল। তারা বিচার করেছেন এবং তিনি সেই রায়ে সন্তুষ্ট। তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ
সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ফরিদগঞ্জ
থানার উপপরিদর্শক মো. হেলালউদ্দিন বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি
করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন
পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।