স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করে ঘরেই মাটিচাপা
৫১ মিনিট আগে বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬
ভারতের
গুজরাটের মেহসানায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সামনে এসেছে রোমহর্ষক তথ্য। স্ত্রী ও
শিশুকন্যাকে হত্যার পর নিজ ঘরেই মাটিচাপা দিয়ে সাত মাস একই বাড়িতে বসবাস করেন এক ব্যক্তি।
পরে আত্মহত্যার আগে লেখা চিঠি থেকেই ফাঁস হয় পুরো ঘটনা।
চলতি
মাসের ৪ মে মেহসানা জেলার একটি সরকারি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন গিরিশ
নামের এক ব্যক্তি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তার পকেট থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করে।
চিঠিতে
গিরিশ স্বীকার করেন, প্রায় সাত মাস আগে তিনি তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং দুই বছর বয়সী
মেয়ে পরীকে হত্যা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তাদের মরদেহ নিজের বাড়িতেই পুঁতে রেখেছেন।
পরদিন
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ গিরিশের বাড়িতে গিয়ে নির্দিষ্ট স্থান খুঁড়ে
মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রায় চার ফুট গভীর থেকে হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়,
যা বিশ্লেষণে প্রিয়াঙ্কা ও তার মেয়ে পরীর বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশ
জানায়, হত্যার পর গিরিশ মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর সিমেন্টের প্লাস্টার করে দেয়।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, তিনি তার আরেক কন্যাকে নিয়ে একই বাড়িতে সাত মাস বসবাস করেছেন।
এমনকি যেখানে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল, সেখানেই বসে নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করতেন।
গিরিশের
বয়স ছিল ৩০ বছর এবং প্রিয়াঙ্কার বয়স ২৯ বছর। তারা একসময় সহপাঠী ছিলেন এবং পরে আদালতের
মাধ্যমে বিয়ে করেন। শুরুতে পরিবারের আপত্তি থাকলেও পরে তা মেনে নেওয়া হয়।
গিরিশ
একটি কারখানার ডায়মন্ড পলিশ বিভাগে কাজ করতেন এবং প্রিয়াঙ্কা স্থানীয় একটি হাসপাতালে
চাকরি করতেন। বিয়ের পর তাদের যমজ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়।
পরিবারের
সদস্যদের দাবি, সন্তান জন্মের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকে। আর্থিক সংকটও পরিস্থিতিকে
জটিল করে তোলে। প্রিয়াঙ্কা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর সংসারের খরচ বাড়ায় তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব
বাড়ে।
২০২৫
সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রিয়াঙ্কা শেষবার তার দাদাকে ফোন করেন। পরদিন গিরিশ জানান, প্রিয়াঙ্কা
সন্তানকে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন।
দীর্ঘ
সময় যোগাযোগ না পেয়ে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রিয়াঙ্কার পরিবার থানায় নিখোঁজের অভিযোগ
করে। পুলিশ গিরিশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে।
তদন্তের
একপর্যায়ে সন্দেহ ঘনীভূত হলে তাকে আবারও ডাকা হয়। তবে থানায় আসার আগেই তিনি হাসপাতালের
ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরে
তার লেখা চিঠির সূত্র ধরেই উদ্ধার হয় স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনার
ভয়াবহ চিত্র।