স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য নিয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত, ব্যাংক কর্মকর্তাকে বদলি
৩ ঘন্টা আগে সোমবার, জুলাই ৬, ২০২৬
উপবৃত্তির
জন্য স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত
তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে রূপালী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখার এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত
কর্মকর্তা তারেক মাহমুদ অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্মে দেওয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একাধিক
ছাত্রীকে গভীর রাতে হোয়াটসঅ্যাপে অডিও-ভিডিও কল ও মেসেজ দিয়ে ইভটিজিং ও সাইবার বুলিং
করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি
জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। পরে
কলেজ প্রশাসন ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মকর্তাকে বদলি
করা হয়।
ভুক্তভোগী
শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের
উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের লক্ষ্যে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার কার্যক্রম পরিচালনা করে
রূপালী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখা। এ সময় নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নাম ও মোবাইল
নম্বরসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের
অভিযোগ, অ্যাকাউন্ট খোলার কিছুদিন পর থেকেই রূপালী ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা তাদের ব্যক্তিগত
মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। পরবর্তীতে গভীর রাতে ভিডিও ও
অডিও কল করে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও বিরক্ত করতেন। একই ধরনের ঘটনার শিকার হন কলেজের
একাধিক ছাত্রী। এতে বিব্রত ও আতঙ্কিত হয়ে তারা বিষয়টি কলেজের শিক্ষকদের জানান ।
পঞ্চগড়
সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, রূপালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা আমাদের
কলেজের অনেক শিক্ষার্থীকে রাতের বেলায় ভিডিও-অডিও কল দিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতেন।
একটি ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা কীভাবে এই ধরনের ইভটিজিং
ও সাইবার বুলিং করতে পারেন? বিষয়টি রূপালী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখার ব্যবস্থাপককে জানানো
হয়েছে।
এ
বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তারেক মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
এ বিষয়ে ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করুন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।
পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
রূপালী
ব্যাংক পঞ্চগড় শাখার ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার রায় জানান, পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ
থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। প্রাথমিক
পদক্ষেপ হিসেবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করা
হয়েছে।
এ
বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি (তদন্ত) আশীষ কুমার বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায়
কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে।