বিয়ের পর ৩ দিন টয়লেটে যেতে পারেন না নব দম্পতি

Cumilla24

৯ দিন আগে বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৫, ২০২৬


#

বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, রীতি ও সংস্কৃতির বহুস্তরীয় ইতিহাস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিয়েকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা প্রচলিত আছে, যা অন্য সংস্কৃতির মানুষের কাছে বিস্ময়কর বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তেমনই এক ব্যতিক্রমী বিবাহরীতি দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে বিয়ের পর টানা ৭২ ঘণ্টা নবদম্পতিকে টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়।

এই অদ্ভুত রীতিটি মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে বসবাসকারী 'তিদোং' নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিবাহপ্রথাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হলেও তিদোং জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কোনো নিষ্ঠুর নিয়ম নয়; বরং এটি দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা, ধৈর্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতীক।

তিদোংরা একটি অস্ট্রোনেশীয় নৃগোষ্ঠী, যাদের বসবাস সাবাহ, কালিমান্তান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায়। তিদোং সমাজে বিয়ে মানে শুধু দুজন মানুষের মিলন নয়; এটি দুই পরিবার, কখনো কখনো গোটা সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বন্ধন।

এই রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। সেখানে তারা বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারে না এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে মানা হয় টয়লেট ব্যবহার। এই তিন দিনে খাবার ও পানীয়ও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হয়, যাতে শরীরের প্রাকৃতিক চাহিদা কমে। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকেন, যাতে কেউ নিয়ম ভাঙতে না পারে।

এই কঠোর নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তিদোং সমাজে ধারণা করা হয়, বিয়ের পর প্রথম তিন দিন এই নিয়ম মেনে চলতে পারলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও কলহমুক্ত। বিপরীতে নিয়ম ভঙ্গ করলে সংসারে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে বলে মনে করা হয়। তাই এই তিন দিনকে অনেকেই ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখেন।

একসময় বিয়ে ছিল পারিবারিক ও সামাজিক জোটের প্রতীক। সেই বন্ধনকে অটুট রাখতে নানা শপথমূলক আচার চালু হয়, যা সময়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক রীতিতে রূপ নেয়। ৭২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞাও সেই ঐতিহ্যেরই অংশ।

তবে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা মলত্যাগ বন্ধ রাখা শরীরের জন্য ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা সুপ্রতিষ্ঠিত। সে কারণে বর্তমানে অনেক তিদোং পরিবার এই রীতিকে শিথিলভাবে পালন করে।

আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রভাবে তিদোং সমাজেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্ম আগের মতো কঠোরভাবে এই নিয়ম অনুসরণ না করলেও এটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারণ এই রীতি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও বিয়ের উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আবহের সঙ্গে এখনো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied