বাসায় গ্রিল কেটে চুরি: স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
১০ ঘন্টা আগে শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬
জামালপুর
শহরের আমলাপাড়ায় এলাকায় বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণালঙ্কার ও
নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার
করেছে পুলিশ।
শুক্রবার
(৪ জুলাই) আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার
(৩ জুলাই) রাতে পৃথক জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলা
সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী জামালপুর
শহরের আমলাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা দুজন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ
আদালতের মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত আছেন।
৩০
জুন বিকালে আহমাদুল কবির ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যান। রাতে বাসায় ফিরে মূল দরজা খুলতে
না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। পরে দেখতে পান দুর্বৃত্তরা
জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও হীরার
আংটিসহ ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা
জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর
থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এরপর
বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অন্য বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার
দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা
হলেন- মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা, সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের
হাওয়া বেগম, শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন, গোলাপবাগ এলাকার সুমন
মিয়া ও কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব।
এর
মধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক
এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
এ
বিষয়ে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, গ্রেফতাররা
বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ নন। তবে তাদের মধ্যে দুজন গত কমিটিতে ছিলেন।
জামালপুর
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা
চুরির ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনা, চোরাই মালামাল
উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে
আদালতে পাঠানো হয়েছে।