বাসর রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু
১৩ ঘন্টা আগে শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
বিয়ের
আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকালে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি
(২২)। শুক্রবার (২১) ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে
স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন আনাস। এতে বিয়ের রাতেই বিধবা
হলেন নববধূ সাইরা খাতুন (১৮)।
বৃহস্পতিবার
দিবাগত রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া
এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।
পরিবার
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাস ও সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। সাইরা উপজেলার
ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে
ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এজন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির
কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।
আনাসও
সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড
ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত
তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনাসের
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিয়ের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িতে
ছিল বিয়ের আনন্দ ও অতিথিদের কোলাহল, রাত পেরোতেই সেখানে শুরু হয় কান্না ও আহাজারি।
স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নববধূ সাইরা।
স্থানীয়
ইউপি সদস্য মিলন হোসেন বলেন, স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু
হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়।
শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে
গেছে।
দৌলতপুর
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করছে।