বাংলাদেশি বান্ধবীকে ফেলে পালালেন সেই চীনা নাগরিক
৯ দিন আগে বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬
নাটোরের
বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়ারী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটাপাড়া গ্রামে বান্ধবীর বাড়িতে আসে
এক কথিত চীনা নাগরিক। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বর মর্যাদা দেন স্কুলছাত্রী
সাদিয়া। মেয়ের বিদেশি বন্ধুকে বাড়িতে থাকতে দেন সাদিয়ার বাবা কৃষক সাদ্দাম হোসেন।
কথিত
ওই চীনা নাগরিক নিজেকে সুবেজ নামে পরিচয় দেন। নিয়ে আসেন সাদিয়ার জন্য উপহারও। সাদিয়ার
স্বজন ও প্রতিবেশীরাও অত্যন্ত আন্তরিকতায় গ্রহণ করেন তাকে। সরল বিশ্বাসে সাধ্যমতো চলে
কথিত ওই বিদেশির আদর-আপ্যায়ন।
তার
আগমনের কথা প্রচার হলে সেই বাড়িতে জমায়েত হন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে ছুটে যান সংবাদকর্মীরাও।
কিন্তু সংবাদকর্মীদের দেখে ক্ষুব্ধ হন কথিত ওই চীনা নাগরিক।
তিনি
সাদিয়াকে জানান, সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন না। সংবাদকর্মীরা চাইলে তিনি পাসপোর্ট
দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি সন্দেহ হলে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ওই নাগরিকের ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। তার ছবিসহ সংবাদও প্রকাশ হয়।
আর এতেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
স্থানীয়রা
জানান, বৃহস্পতিবার কথিত ওই চীনা নাগরিক আসার পর শনিবার রাতে ওই বাড়িতে ঢাকা থেকে আসেন
সামিলা নামে এক তরুণী।
সামিলা
জানান, ওই ব্যক্তি তার স্বামী। কিছুদিন আগে একইভাবে তার সঙ্গেও পরিচয় হলে সুবেজ ঢাকায়
এসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর কয়েকদিন থেকে তাকে কিছু না জানিয়েই সুবেজ নিজ দেশে ফিরে
যায়। এরপর সুবেজ তাকে জানান, তার হাতে টাকা না থাকায় তিনি আসতে পারছেন না। অথচ এখন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে তিনি এখানে চলে এসেছেন, তাই আমি এখানে এসেছি।
বিষয়টি
জানাজানি হওয়ার পর রোববার ভোরেই সামিলাসহ ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান কথিত ওই চীনা নাগরিক।
ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অল্পের জন্য প্রতারণার হাত থেকে
বাঁচল স্কুলছাত্রী সাদিয়া। নাটোর মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সাধারণ
সম্পাদক জাহানারা বিউটি জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে হঠাৎ কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ
নয়।