আমি শুধু বাচ্চারে টুকরো করেছি, ধর্ষণ করেছে ডলার, মারছে ডলার: রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল

Cumilla24

১০ ঘন্টা আগে সোমবার, জুন ১, ২০২৬


#

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা বলেছেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।

সোমবার (১ জুন) এ মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করে এসব কথা বলেন প্রধান আসামি সোহেল রানা।

এ সময় তিনি দাবি করে, মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ‘ডলার নামে একজন তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিল। এ কথা বলার পরপরই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং কাঠগড়া থেকে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যান।

সোমবার এ মামলায় ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (২ জুন) দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গত ২৫ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। ওইদিনই মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর চার্জশুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে ওই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।  জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার সময় ঘর থেকে বের হলে আসামি কৌশলে ভিক্টিমকে তার ফ্ল্যাটের রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বাদী মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে বাদী তার মেয়ের জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাদী তার স্ত্রী ও অন্য ফ্লাটের লোকজন নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।  এ সময় আসামির শয়ন কক্ষের মেঝেতে ভিকটিম রামিসার মাথাবিহীন লাশ দেখতে পান। আর মাথা রুমের ভেতর বার্জার রংয়ের বড় বালতির ভেতর দেখতে পান।

এ সময় আসামি স্বপ্নাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন।  জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার স্বামী সোহেল রানা তার হীন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষে বাদীর শিশু কন্যাকে বাথরুমের আটকে রেখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে। লাশ গুম করার উদ্দেশে স্বপ্নার সহায়তায় সোহেল ভিকটিমের মাথা, ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে এবং দুইহাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে আসামিদের শয়ন কক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। 

ওই রুমের জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। আর নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। গত ২১ মে সেই মামলায় সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। 

রামিসার বাবা তার পরিবারের লোকজন নিয়ে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ফ্ল্যাটে ভাড়া বাসায় থেকে বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করেন। আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারও একই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে থাকতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied