কুমিল্লায় সৎ মায়ের নির্যাতনের অভিযোগ, মায়ের কবরের পাশেই অঝোরে কাঁদছেন সন্তান
৫ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২৬
কুমিল্লার
লালমাই উপজেলায় সৎ মায়ের নির্যাতনের শিকার এক এতিম শিশু তার মায়ের কবরের পাশে বসে কাদার
একটি ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হৃদয়বিদারক
এ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপে করেছে।
মঙ্গলবার
(২৪ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত সৎ মা এবং শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার
(ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় তার সৎ মা দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন
এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ আর করবেন না বলে মুচলেকা দেন।
জানা
গেছে, ছামিয়া আক্তার উপজেলার পোহনকুছা পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় চার বছর
আগে তার মা মারা যান। এরপর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
বাবার অনুপস্থিতিতে সৎ মা আয়েশা আক্তারের সঙ্গে বসবাস করতে গিয়ে ছামিয়া দীর্ঘদিন ধরে
শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীকে প্রায়ই মারধর করতেন তার সৎ মা। এমনকি সম্প্রতি টানা দুই
দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে বাবাকে জানানো হলেও কার্যকর
কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এদিকে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরীটি তার মায়ের কবরের
পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ সময় কান্না করতে করতে বলতে শোনা যায়, আমারে কেন আপনার
সঙ্গে নিয়ে গেলেন না। আম্মু গো আমি আসছি। আম্মু গো বের হও। আমারে নিয়ে যেতে পারেন নাই?
কেন রেখে গেলেন? মা, আমাকে নিয়ে যাও।
হৃদয়বিদারক
এ দৃশ্য দ্রুতই নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং জনমনে ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার
পরপরই ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন এবং বাগমারা দক্ষিণ
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
ইউএনও
উম্মে তাহমিনা মিতু গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটির সৎ মা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক
সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুনরায় এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।
এদিকে
বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন জানান, ঘটনাটি
তদন্ত করে দেখা হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে নজরদারি জোরদার
করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে
উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন
দপ্তরের কর্মকর্তারা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রশাসনের
এমন দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের ধারাবাহিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।