কুমিল্লায় ভিডিও করায় ২ সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠালেন এসিল্যান্ড

Cumilla24

১০ ঘন্টা আগে বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬


#

কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে।

 

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল অনলাইন নিউজ পোর্টালের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, আমার আপন খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে গত ১ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। বুধবার ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল। আমাকে তিন দিন আগে আমার খালাতো বোন ফোন করে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। আমি আমার সহকর্মী মানবজমিনের প্রতিনিধি রাসেলকে নিয়ে চান্দিনায় যাই। এর আগে চান্দিনায় কর্মরত আমার পরিচিত সাংবাদিকদের ফোন করি। কিন্তু তারা বিভিন্ন কাজে চান্দিনার বাইরে অবস্থান করায় কাউকে পাইনি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে আমরা ভূমি অফিসে যাই। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আমরা এসিল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করি, শুনানিটা আজ হবে কি না। এ সময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি পকেট থেকে মোবাইল ফোন দিয়ে তার খারাপ আচরণের ভিডিও ধারণের সময় আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চাইলে আমি বাধা দিই। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পুলিশ ফোন করে এনে আমাকে এবং সাংবাদিক রাসেল সরকারকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যেতে পুলিশকে আদেশ দেন। পরে পুলিশ আমাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

আব্দুল আলিম বলেন, থানায় নেওয়ার পর আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় মোবাইলের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি এবং ভিডিও ডিলিট করে দেন। পরে আমরা এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করব না মর্মে জোর করে আমাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে আমাদের মুক্ত করে দিলে আমরা দেবিদ্বার চলে আসি।

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর বলেন, আমার দপ্তরে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও করার কারণে ও সরকারি কর্তব্যকাজে বাধা দেওয়ায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

 

চান্দিনা থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নই। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন আমরা পুলিশ সেটাই পালন করেছি।

 

অপরদিকে দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাতে নিন্দা ও সমালোচনা চলছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকেরা।

 

এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ভুল করলে প্রেস ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু দুজন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

 

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে, আমরা খুবই বিব্রত। আমরা এখনো পুরো ডিটেইলস জানতে পারিনি। তাই মন্তব্য করতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied