কষ্ট পেয়েছি, বাংলাদেশকে আমিও কষ্ট দেব: মনিকা
৭ ঘন্টা আগে শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬
রাজধানীর
গুলশানে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধরের অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন
রুশ বংশোদ্ভূত মডেল মনিকা কবির। ঘটনাটি ঘিরে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
গত
মঙ্গলবার বিকেলে গুলশান-২ এলাকায় টিকটক ভিডিও ধারণের সময় এক বৃদ্ধ পথচারীর ব্যাগের
কোণা তার গায়ে লাগলে মনিকা কবির ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের
দাবি, তিনি ওই বৃদ্ধকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ব্যাগ ছুড়ে মেরে
তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার
একটি ভিডিও মনিকা নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে
দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এই
ঘটনার জেরে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ
আল ইসলাম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাকে হাজির করার জন্য সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এদিকে
সমালোচনার মধ্যেই এক মুঠোবার্তায় দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন
মনিকা কবির। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আপনারা মেয়েদের ওপর পানি ফেলেন ! আমি চলে গেলে এখানে
কোনো বিদেশি মেয়ে আসবে না—আমি কথা দিচ্ছি। বাংলাদেশ আমাকে কষ্ট
দিলে আমিও বাংলাদেশকে কষ্ট দেব।’
তিনি
আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিদেশে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং দেশের জন্য অনেক
কিছু করেছেন বলেও মন্তব্য করেন।
রাশিয়ায়
জন্ম নেওয়া এবং মস্কোতে বেড়ে ওঠা এই মডেলের প্রকৃত নাম মারিয়া ভ্যালিরিয়েভনা। পরিবারে
তাকে ‘মনিশকা’ নামে ডাকা হয়। তার মা রুশ নাগরিক ম্যারিয়া গোজেন এবং বাবা
একজন ভারতীয় চামড়া ব্যবসায়ী। বাবার ব্যবসার সূত্রে ২০১২ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন
তিনি।
এর
আগে খোলামেলা পোশাক ও জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক ছিল। তবে
গুলশানের সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।