সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত
১ দিন আগে মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
সুনামগঞ্জের
সুরমা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি কিছুটা বেড়েছে। কুশিয়ারার মারকুলি স্টেশনে পানি এখনো
বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
পাউবো
সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টায় জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার
নিচে থাকলেও কয়েকটি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা
সদরের প্রধান নদী সুরমার শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ৭ দশমিক ৪০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে,
যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানির উচ্চতা ১৫
সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জে ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ছাতক
পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ৬৮ মিটার উচ্চতায় রয়েছে, যা বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার
নিচে। এ সময়ে ছাতকে ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হলেও উজানের
ঢলে ছাতকের নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। উজানের ঢল অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
গত
২৪ ঘণ্টায় জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে তাহিরপুর
উপজেলার লাউড়েরগড়ে। অব্যাহত বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায়
আগামী কয়েক দিনে নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাউবো
জানিয়েছে, শনিবার বিকালে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা ছিল
৭ দশমিক ৪০ মিটার, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানির
উচ্চতা ১৫ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে জেলায় ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে,
যা আগের ২৪ ঘণ্টার ৭৭ মিলিমিটারের তুলনায় কম। তবে পাহাড়ি ঢলের পানি নামা অব্যাহত আছে।
পাউবোর
সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এমদাদুল হক বলেন, আপাতত বৃষ্টি কিছুটা
কমে নদ-নদীর পানি হ্রাস পেলেও আগামী দিনগুলোতে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি
বাড়লে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি
হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে
সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলার ১২টি উপজেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা
প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত
রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল
টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও জিআর চাল
বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পরিস্থিতি
দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই জরুরি সেবা সচল রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। জেলা
ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ ৪ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।