সাপের কামড়ে মৃত নারীকে ‘জীবিত’ করতে কবরের পাশে ওঝার ঝাড়ফুঁক
৮ ঘন্টা আগে রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
টাঙ্গাইলের
সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের
দুই দিন পর ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে
জীবিত করার দাবি করেছেন এক ওঝা। এ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি
হয়েছে। ওই ওঝার ঝাড়ফুঁকের
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার
(১৬ আগস্ট) সখীপুর উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ওই নারীর নাম
হাসনা বেগম (৫৮)। তাঁর
বাড়ি উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায়।
পরিবার
সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিষধর
সাপের কামড়ের পর হাসনা বেগমকে
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের
ভাষ্য, সাপে কাটার খবর পেয়ে গাজী মিয়া নামের এক ওঝা সেখানে
আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি এবং বিশেষ পদ্ধতিতে তাঁকে জীবিত করা সম্ভব। পরে তিনি কবরের এক পাশে সামান্য
মাটি খুঁড়ে গন্ধ শোঁকেন। এরপর দাবি করেন, তিনি তেলের গন্ধ পেয়েছেন। তাঁর এমন দাবিতে কবরের পাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
ওঝা
নিহত নারীর মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের কাছে এসে গন্ধ পরীক্ষা করবেন। দুর্গন্ধ না পাওয়া গেলে
মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাঁকে জীবিত করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। তবে মরদেহে পচন ধরে গেলে আর তা সম্ভব
হবে না বলেও জানান
ওই ওঝা।
খালেদা
বেগম জানান, মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় তিনি কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। তবে পরে ওঝা ফোন করে জানান, রাতে ধ্যানে বসে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে হাসনা বেগম
আর বেঁচে নেই।
ওঝা
গাজী মিয়াও ফোনে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আগের দিন তিনি হাসনা বেগমকে জীবিত মনে করলেও বর্তমানে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে এর বেশি কিছু
বলতে রাজি হননি তিনি।
এ
বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা করে একজনকে মৃত ঘোষণা করার পর কবর দেওয়ার
দুই দিন পর ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে
তাঁকে জীবিত করার দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর ঝাড়ফুঁক করে
জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি।