শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ৩৪ দিনে মিললো ৭০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা

Cumilla24

১ দিন আগে রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬


#

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে এবার ৩৪ দিনে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ ছাড়া দুই ভরি এক রতি স্বর্ণ, ১৫ ভরি দুই আনা রৌপ্য এবং ১৯টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। সংবাদআর্কাইভ

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে গণনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এর আগে, শনিবার সকাল ১০টায় মাজারের তিনটি দানের ডেগ ও তিনটি দানবাক্স সিলগালা অবস্থায় খোলা হয়।

গণনা শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুই ভরি এক রত্তি স্বর্ণ এবং ১৫ ভরি ২ আনা রৌপ্য পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড ১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি রুপি ৬০ রুপি, সৌদি রিয়াল ৭০ রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৮৩ রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার ৪ ডলার, নেপালি রুপি ১০০ রুপি, ওমানি মুদ্রা ১০০০ বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন, ইরাকি দিনার ২৫০ দিনার, তুর্কি লিরা ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ডং ১০০০ ডং, জাপানি ইয়েন ১০০০ ইয়েন, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০ পাউন্ড, মিশরীয় পাউন্ড ১০ পাউন্ড, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১ ডলার। এর মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২৪৮ রুপি।

জেলা প্রশাসক জানান, নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির পৃথক হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। পরবর্তীতে তার নির্দেশে ১৮ জুন পুরাতন তিনটি ডেগে সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানো হলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থার মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার।

তবে, প্রত্যাহারের আদেশ হলেও গত ২২ জুন সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এক মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত জমা দেওয়ার কথা বললেও গঠনের পর প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেলেও কমিটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা দিতে পারেনি।

global fast coder
ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied