মাদক ব্যবসায়ীর কুঁড়েঘরে রয়েছে এসি, নিরাপত্তায় আছে সিসি ক্যামেরা
৮ ঘন্টা আগে রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
নোয়াখালীর
চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামে সরকারি খাস জায়গায় এক মাদক ব্যবসায়ীর
গড়ে তোলা কুঁড়েঘরে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছে। ছোট্ট কুঁড়েঘর হলেও সেখানে বসানো
হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং পুরো আস্তানাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক
নজরদারি ক্যামেরা।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, এই মাদক আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫)। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায়
থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, একসময়
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সহায়তায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের
সহযোগিতায় তা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে
পূর্বে কয়েক দফা ইয়াবাসহ আটক করা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কার্যক্রমে জড়িয়ে
পড়েন।
স্থানীয়দের
মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বেদে পল্লীকে কেন্দ্র করে অবাধে মাদক বিক্রির কারণে
এলাকার ছাত্র ও যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা এই মাদক চক্রের পেছনের গডফাদারদের
আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
চাটখিল
পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, অভিযুক্তের প্রভাব এতটাই বেশি যে পুলিশ,
সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সাধারণ মানুষ—কেউই তার বিরুদ্ধে সহজে অবস্থান নিতে
পারছে না। বহিরাগত উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে।
পুলিশ
জানায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার নামে থানায় সাতটি মামলা রয়েছে এবং তাকে ছয়বার আটক করা
হয়েছে। প্রতিবার জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তাকে ধরতে গিয়ে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
চাটখিল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোন্নাফ জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
রয়েছে এবং সম্প্রতি তাকে আটকও করা হয়েছিল। তবে তার এ ধরনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি
আগে জানা ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।