বাংলাদেশ থেকে কুকুর পাচার হচ্ছে ভারতে

Cumilla24

৯ ঘন্টা আগে মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬


#

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর শিকার করে ভারতের মিজোরামে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা হয়ে ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

মিজোরামের জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখে সম্প্রতি কুকুর শিকার ও পাচারের তৎপরতা বেড়েছে।

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল, ২০২০ পাস হয়, যার মাধ্যমে কুকুরকে জবাই বা ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কয়েকজন শিকারি দাবি করেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই কুকুর ধরেছেন।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে কুকুর শিকার করা হতে পারে।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কুকুর পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হচ্ছে কি না, তা আমরা জানি না। এটি নিশ্চিত না হয়ে বলাও যায় না। তবে স্থানীয়ভাবে কুকুর ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয়। কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে। বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা এটি প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনকে নিয়ে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়; ফলে টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করে। এ কারণে নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করতে আইন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  
Link copied