পুজোর উপহার পদ্মার ইলিশ না পেয়ে হতাশ কলকাতাবাসী
১১ ঘন্টা আগে বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬
বাঙালির
রসনায় পদ্মার ইলিশের বিশেষ কদর রয়েছে। তবে এবার দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি না পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের
বাঙালিদের পদ্মার ইলিশ খাওয়ার সুযোগ নাও হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতের মাছ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। ইতিহাসপড়ুন
২০১২
সালে ইলিশ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময়
ভারতসহ বিদেশে ইলিশ পাঠানো বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পর ২০১৯ সাল
থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিতে শুরু করে বাংলাদেশ।
২০২৪
সালেও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত
ছিল। ওই বছর ভারতকে
১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির
অনুমতি দেওয়া হলেও স্বল্প সময়ের কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মাত্র ১৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি
করতে সক্ষম হন।
এ
কারণে এবার পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে ইলিশ আমদানির সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আগস্টে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন ভারতীয় মাছ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইলিশ রপ্তানির সময় বাড়ানো বা নতুন করে
অনুমোদনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে,
চলতি বছর তুলনামূলক কম দামের কারণে
ভারত থেকেও গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। এরপরও বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ আমদানির অনুমতি না মেলায় হতাশ
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। ইতিহাসপড়ুন
ভারতের
ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাণিজ্যিক বিষয়কে রাজনীতির সঙ্গে এক করে দেখা
উচিত নয়। বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, সে
বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এমন কোনো কারণ থাকলে সেটি দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি
আরও বলেন, ভারত থেকে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হলেও বাংলাদেশ থেকে এবার ইলিশ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট
কারণ সম্পর্কে তারা কোনো ব্যাখ্যা পাননি।
বাংলাদেশের
সিদ্ধান্তের কারণে এবার কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের
দুর্গাপূজার আয়োজনে পদ্মার ইলিশের স্বাদ অনুপস্থিত থাকতে পারে—এমন আক্ষেপও জানিয়েছেন ভারতীয় মাছ ব্যবসায়ীদের এই নেতা।