গৃহকর্মীর প্রেমের বলি সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতি
৩ দিন আগে রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
সিলেট
মহানগরীর রায়নগর এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে
হত্যার ঘটনায় ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যেই
বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ। বিজ্ঞাপনস্লট
বুধবার
(১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল মিয়া রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনিতে বসবাস করেন। পেশায় তিনি রংমিস্ত্রি হলেও মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিলেট
মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ থেকে ৯টা
৩৫ মিনিটের মধ্যে রায়নগরের মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য বিষয়
বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।
পুলিশ
জানায়, নিহত আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০
দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই বাড়িতে বাবুল
আগে রংমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রির কাজও
করেছিলেন।
পুলিশের
ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার একটি ছুরি নিয়ে ওই বাড়িতে যান
বাবুল। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী
তাহমিনা তাকে ভেতরে ঢুকতে দেন। পরে একটি কক্ষে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
তিনজনকে
হত্যার পর বাবুল বারান্দা
দিয়ে পালিয়ে গিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাসায় ফিরে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। LawEnforcement
পুলিশ
কমিশনার জানান, বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাড়ি চাঁদপুর বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে।
এ
ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে
অন্য কেউ জড়িত কি না, তা
তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।